বিশ্বব্যাপী তেল-গ্যাস ক্ষেত্রে উত্তোলন হ্রাসের হার এখন দ্রুতগতিতে বাড়ছে

বিশ্বের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন হ্রাসের স্বাভাবিক হার (ন্যাচারাল রেট অব ডিক্লাইন ইন আউটপুট বা নতুন বিনিয়োগ ছাড়াই স্বাভাবিক উত্তোলন হ্রাসের হার) দ্রুত বাড়ছে।

বিশ্বের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন হ্রাসের স্বাভাবিক হার (ন্যাচারাল রেট অব ডিক্লাইন ইন আউটপুট বা নতুন বিনিয়োগ ছাড়াই স্বাভাবিক উত্তোলন হ্রাসের হার) দ্রুত বাড়ছে। এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখছে শেল ও গভীর সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদের ওপর বাড়তি নির্ভরশীলতা। এ অবস্থায় উত্তোলন স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)।

আইইএর গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোয় ধারাবাহিক বিনিয়োগ না হলে প্রতি বছর ব্রাজিল ও নরওয়ের সম্মিলিত উৎপাদনের সমপরিমাণ সরবরাহ কমে যাবে। এর প্রভাব পড়বে বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তায়।

এ বিষয়ে আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেন, ‘তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন পর্যায়ে যে বিনিয়োগ করা হয় তার খুব অল্প অংশ নতুন চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়। প্রতি বছর প্রায় ৯০ শতাংশ বিনিয়োগই বিদ্যমান ক্ষেত্রের উত্তোলন হ্রাস মোকাবেলায় ব্যয় হয়। উত্তোলন হ্রাসের হারই এখন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বড় বিষয়।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ হাজারেরও বেশি জ্বালানি তেল ও–প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বার্ষিক উত্তোলন হ্রাসের হার এখন প্রচলিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ক্ষেত্রে গড়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে এ হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০১০ সালে যেখানে বিনিয়োগ বন্ধ হলে বছরে ৪০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমত, এখন তা দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ব্যারেলে। এ পরিমাণ ব্রাজিল ও নরওয়ের মোট উত্তোলনের সমান। প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে হ্রাসের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে বছরে ২৭ হাজার কোটি ঘনমিটারে, ২০১০ সালে যা ছিল ১৮ হাজার কোটি ঘনমিটার।

আইইএ জানায়, ২০২৪ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী মোট জ্বালানি তেল উত্তোলনের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের ৯০ শতাংশই এসেছে এমন ক্ষেত্র থেকে, যেগুলোর উত্তোলন এরই মধ্যে সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ চলছে। তবু এখনো বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় অংশই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে তেল-গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উত্তোলন কমতে থাকলে সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যচাপ দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। উত্তোলন হ্রাসের এ প্রবণতা জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগ না বাড়লে বাড়তে পারে জ্বালানি পণ্যের দামও।

আরও